Abdul Latif's Journey: From Rural Roots to Banking Excellence

আব্দুল লতিফ, বাংলাদেশের জামালপুর জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে যাঁর জন্ম, তিনি এক অসাধারণ শিক্ষাজীবন এবং কর্মজীবনের অধিকারী। গ্রামীণ জীবন থেকে উঠে এসে তিনি কীভাবে ব্যাংকিং সেক্টরে নিজের এক স্বতন্ত্র স্থান তৈরি করেছেন এবং প্রযুক্তির প্রতি তাঁর অগাধ আগ্রহকে কাজে লাগিয়েছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক।
জামালপুরে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে আব্দুল লতিফ পাড়ি জমান টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর শহীদ স্মৃতি কলেজে, যেখানে তিনি তাঁর উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এই পদক্ষেপটি তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল, যা তাঁকে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। এরপর তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে অর্থনীতি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সময়টি তাঁর জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে সহায়ক হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে তাঁর কর্মজীবনে অত্যন্ত মূল্যবান প্রমাণিত হয়েছে।
২০১২ সালে আব্দুল লতিফ অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডে সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। তাঁর প্রথম কর্মস্থল ছিল সিলেট জেলার কানাইঘাট থানার গাছবাড়ী বাজার শাখা। নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করে তিনি ব্যাংকিং খাতের জটিলতা এবং এর প্রায়োগিক দিকগুলো সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। সততা, নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি দ্রুত তাঁর কর্মদক্ষতা প্রমাণ করেন এবং পদোন্নতি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি শেরপুর জেলার ভীমগঞ্জ বাজার শাখায় সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। এটি তাঁর কর্মজীবনের এক উল্লেখযোগ্য অর্জন, যা তাঁর অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলীর প্রতিফলন।
আব্দুল লতিফের জীবনবৃত্তান্তের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ। একজন ব্যাংকার হিসেবে, যেখানে গতানুগতিক কাজের বাইরে প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম, সেখানে তাঁর এই আগ্রহ ব্যতিক্রমী। তিনি তাঁর ব্যাংকের অধিকাংশ কাজে এমএস এক্সেল, এমএস অ্যাক্সেস এবং বিভিন্ন অনলাইন প্রোগ্রাম ব্যবহার করেন, যা তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। এটি তাঁর উদ্ভাবনী ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং স্ব-শিক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নিজের হাতে তৈরি করা এই টুলসগুলো নিঃসন্দেহে ব্যাংকিং কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও সুসংগঠিত করতে সহায়ক হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল একজন দক্ষ ব্যাংকারই নন, বরং একজন প্রযুক্তিপ্রেমী এবং স্বশিক্ষিত প্রোগ্রামারও বটে। তাঁর এই দক্ষতা তাঁকে ব্যাংকিং সেক্টরে একটি অনন্য অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে তিনি সনাতন ব্যাংকিং পদ্ধতির সাথে আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন।
আব্দুল লতিফের এই পথচলা বাংলাদেশের হাজারো তরুণের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর গল্প প্রমাণ করে যে, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যাবসায় এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহ থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। গ্রামীণ প্রেক্ষাপট থেকে উঠে এসে দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ, এরপর একটি প্রথম সারির ব্যাংকে সফল কর্মজীবন এবং সবশেষে নিজের প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখা - এই সবই আব্দুল লতিফের ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। তিনি কেবল একজন সফল ব্যাংকার নন, বরং একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, যিনি তাঁর কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত আগ্রহের মধ্যে একটি চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তাঁর এই যাত্রা কেবল তাঁর নিজস্ব সাফল্য নয়, বরং এটি দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিরও একটি ক্ষুদ্র অংশ। আব্দুল লতিফের মতো ব্যক্তিরা বাংলাদেশের উন্নয়নে নীরব ভূমিকা পালন করে চলেছেন, যা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।



আমার নাম আব্দুল লতিফ, আমি বাংলাদেশের জামালপুর জেলায় জন্ম গ্রহন করেছি। জামালপুর হতে মাধ্যমিক পাশ করে টাংগাইল জেলার মধুপুর শহীদ স্মৃতি কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে। তার পর অর্থণীতি নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনার্স মাস্টার্স করি। এর ২০১২ সালে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড এ সিনিয়র অফিসার হিসেবে সিলেট জেলার কানাইঘাট থানার গাছবাড়ী বাজার শাখায় যোগদান করি। বর্তমানে আমি সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে শেরপুর জেলার ভীমগঞ্জ বাজার শাখায় কর্মরত আছি। কম্পিউটার প্রোগ্রামিংএর উপর বেশ আগ্রহ আছে আমার। আমার ব্যাংকের অধিকাংশ কাজে আমি এমএস এক্সেল, এমএস একসেস, অনলাইন প্রোগ্রাম ব্যবহার করি যার সবগুলো আমার নিজের করা।